মানুষের জীবনে আতঙ্ক বা ভয় একটি প্রাসঙ্গিক বিষয়। পারিপার্শ্বিকতার কারণে ছোটবেলা থেকেই ভূত-প্রেত, দেও-দৈত্য, রাক্ষস-খোক্কস প্রভৃতি শব্দ ও কল্পিত ভয়ংকর রূপ বা চেহারা অন্তরে গেঁথে যায় এবং সেখান থেকেই আতঙ্কের যাত্রা হয়েছে শুরু। একটু উনিশ-বিশ হলেই ভয় লাগে, বুক ধড়ফড় করে ওঠে। কখনো জানা আতঙ্ক আবার কখনো অজানা আতঙ্ক পেয়ে বসে মানব মনকে। জানা আতঙ্ক নিয়ে মোকাবিলা করা গেলেও অজানা-অচেনা আতঙ্ক নিয়ে মোকাবিলা করা খুবই কঠিন। পক্ষান্তরে জানা আতঙ্ক বলতেও আর তেমন কিছু নেই। কারণ, খুব পরিচিত লোকদের দ্বারাই ক্ষতিগ্রস্ত হতে হয় বেশি। বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে আতঙ্ক একেবারে কাছাকাছি এসে শ্বাস ফেলে। মানুষ অসহায় হয়ে পড়ে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে পথেঘাটে দিনে কিংবা রাতে চুরি, ছিনতাই, রাহাজানি, প্রাণহানি সবই ঘটে চলছে। জনমনে তীব্র আতঙ্ক! জানমালের নিরাপত্তা বিন্দুমাত্র নেই। সুতরাং ভয় বা আতঙ্ক ঘনীভূত হচ্ছে। স্বাভাবিক থাকবার নিশ্চয়তা মানুষ পাচ্ছে না। মানুষ একটা বড় আতঙ্ক অন্তরে ধারণ করে জীবিকা নির্বাহ করছে মাত্র, তবে এতে না আছে কোনো স্বস্তি না আছে কোনো শান্তি বা স্বাচ্ছন্দ্য। মানুষের বিপন্ন অস্তিত্বে ভয় দানা বেঁধে আছে।
আজকাল কথায় কথায় আতঙ্ক। কী বললে যে কী রকম শাস্তির আওতায় পড়তে হবে, বক্তার কাছে তা এখনো অনিশ্চিত। বুঝেসুজে ঠান্ডা মাথায় কথা বলতে হবে, নইলে নিশ্চিত বহুমুখী সাজার আওতায় আসতেই হবে। লাজলজ্জার বালাই নেই, হম্বিতম্বি সার; অথচ এদের বিলুপ্ত অস্তিত্ব রক্ষার জন্য রাষ্ট্রযন্ত্র যখন পক্ষ নেয়, তখন একধরনের ভয়াবহ আতঙ্ক জনমনে তৈরি হবেই, যার থেকে রেহাই পাওয়া জনগণের জন্য বেশ কঠিন। কথায় কথায় মামলা-হামলার কারণে আতঙ্ক এখন বড় রকমের পারমাণবিক বোমার মতো ভয়ংকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুধু বিস্ফোরণের অপেক্ষা মাত্র।

Post a Comment